ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাচ্ছেন কি স্টারমার?
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকার পরও পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমারের দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে।
ম্যান্ডেলসন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন গত বছর পর্যন্ত। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার খবর জানাজানি হলে তাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ নতুন করে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করেছে। সেখানেও ম্যান্ডেলসনের ছবি আছে। একটি নথির অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাজ্যের বাজার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যও এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন। এ নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমালোচনার মুখে সম্প্রতি লেবার পার্টির দলীয় সদস্য পদ ছেড়েছেন ম্যান্ডেলসন। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত নথি প্রকাশের দাবি উঠেছে। লেবার এমপিরা জানিয়েছেন, ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের কারণে এই নথি প্রকাশে দেরি হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো প্রকাশ হলে তা স্টারমারের নেতৃত্ব টিকে থাকা নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এর আগে দলের অভ্যন্তরীণ চাপে পদত্যাগের ঘটনাটি বরিস জনসনের। তার আমলে ডেপুটি চিফ হুইপ ক্রিস পিঞ্চারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। সে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরীণ আস্থা হারান বরিস। এবার ম্যান্ডেলসন ও স্টারমারকে নিয়ে লেবার পার্টির এক এমপি বলছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের বিষয়ে তারা সবকিছু জানত। এরপরও তাকে রাষ্ট্রদূত বানিয়েছে। এটি ক্রিস পিঞ্চার কেলেঙ্কারির চেয়েও ভয়াবহ। স্টারমার যখনই পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা স্বীকার করেছেন তখনই সব শেষ হয়ে গেছে।
লেবার পার্টির আরেক এমপি সতর্ক করে বলেছেন, 'আস্থারও একটি সীমা আছে। আস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীকে (স্টারমার) আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন জানাতে পারবো কি না নিশ্চিত নই।'
বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্টারমার স্বীকার করেন, ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের আগে থেকেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতেন। এ নিয়ে আরেক এমপি বলেন, স্টারমারের এমন স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়েই আসলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে।
যদিও এ নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট পরে জানায়, স্টারমার কেবল জনসমক্ষে থাকা তথ্যগুলো সম্পর্কেই জানতেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার হাউস অব কমনসের অধিবেশনে স্টারমার বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কে তাঁকে ভুল পথে চালিত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পাওয়ার আগে এবং পরে যখনই ম্যান্ডেলসনকে এপস্টেইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তিনি বারবার মিথ্যা বলেছেন।
ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ায় নিজে অনুতপ্ত বলেও অধিবেশনের ভাষণে উল্লেখ করেন স্টারমার।
Comments