ইরানের প্রধান বিচারপতির বিক্ষোভকারীদের সতর্কবার্তা
ইরানের প্রধান বিচারপতি বুধবার বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, 'ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে শত্রুকে যারা সহযোগিতা করবে, তাদের জন্য কোনো শিথিলতা থাকবে না।' তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন, তারা দেশটিকে অস্থিতিশীল করতে 'হাইব্রিড কৌশল' অনুসরণ করছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে তিনি তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি 'শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করবেন না'।
বর্তমান বিক্ষোভ—গত তিন বছরে সবচেয়ে বড় বিদ্রোহের ঢেউ—শুরু হয় গত মাসে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে, যেখানে দোকানদাররা মুদ্রার ভয়াবহ পতনের প্রতিবাদ করেন। এরপর থেকে গভীরতর অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রেক্ষাপটে অস্থিরতা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে—এর মধ্যে রয়েছে অব্যবস্থাপনা ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত দ্রুতগতির মুদ্রাস্ফীতি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ।
ইরানের প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেইকে বলেন, 'ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর, যারা দাঙ্গা ও অস্থিরতার জন্য রাস্তায় নামছে, তাদের আর কোনো অজুহাত নেই।' এজেই বলেন, 'এখন থেকে ইসলামিক রিপাবলিক এবং জনগণের শান্তির বিরুদ্ধে শত্রুকে যে-ই সহযোগিতা করবে, তার জন্য কোনো শিথিলতা থাকবে না।
কুর্দি-ইরানি অধিকার সংগঠন হেঙ্গাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর প্রথম ১০ দিনে ইরানে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছে এবং ১৫ শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকারকর্মীদের নেটওয়ার্ক এইচরানা আরো বেশি হতাহতের কথা জানিয়েছে। কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত এবং অন্তত দুই হাজার ৭৬ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে বলেছে নিরাপত্তা বাহিনীর কমপক্ষে দুই সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ডজনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন।
Comments