বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে সমন্বিত কর্মসূচি
মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) ২০২৬-কে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং হালাল খাতের সহযোগিতা জোরদারে একটি সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই)।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, এনডিসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিএমসিসিআই-এর সভাপতি মো. আনোয়ার শাহিদ, পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা ও ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান শরীফ শাহ জামাল রাজ এবং মহাসচিব সৈয়দ মঈনউদ্দিন আহমেদ।
প্রতিনিধি দলটি প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), বিস্তৃত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, হালাল সনদ প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাত এবং সেমিকন্ডাক্টরের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজসহ উদীয়মান শিল্প নিয়ে আলোচনা করেন।
দ্রুত বর্ধনশীল বিশ্ব হালাল বাজারে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের প্রবেশাধিকার সুগম করতে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি সমন্বিত হালাল পরীক্ষা ও সনদ কাঠামো তৈরির ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্য সচিব জানান, সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারে কাজ করছে; যেখানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি দেখভাল করবে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন সনদ দেওয়ার কাজ পরিচালনা করবে। বিএমসিসিআই-এর মতে, সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সহায়ক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনেও কাজ করছে।
বিএমসিসিআই সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং জোর দিয়ে বলে যে, একটি কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম কেবল সনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; এতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাজারে প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পণ্য উন্নয়ন এবং রপ্তানি সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন।
সংগঠনটি আরও জানায়, হালাল খাতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যৌথ জ্ঞান বিনিময়, বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী বাজার সংযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং উদীয়মান উৎপাদন খাতগুলোতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে—বিশেষ করে যে খাতগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক শিল্প অংশীদারিত্ব তৈরি করতে পারে।
আলোচনায় দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ এবং সেমিকন্ডাক্টর সম্পর্কিত ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আসন্ন 'মিহাস'-এ অংশগ্রহণের সময় মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (মেট্রেড), মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) এবং অন্যান্য মালয়েশীয় অংশীদারদের সাথে বিএমসিসিআই-এর পরিকল্পিত বৈঠকের মাধ্যমে এই সরকারি-পর্যায়ের আলোচনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়িত হবে।
এসব বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসার, বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব সহজীকরণ, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার প্রযুক্তি ও উৎপাদনের সুযোগ চিহ্নিতকরণ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে (বিটুবি) সংযোগ জোরদার করা।
বিএমসিসিআই জানায়, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বিনিয়োগ, উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বমানের ভ্যালু চেইনে যুক্ত হওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
সংগঠনটি উল্লেখ করে যে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, হালাল খাতের উন্নয়ন, উন্নত উৎপাদন, ডিজিটাল রূপান্তর, লজিস্টিকস, আর্থিক সেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নে মালয়েশিয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের সম্প্রসারমান শিল্প ভিত্তি, তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।
Comments