রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং, প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তি
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার রাতে লম্বা সময় ধরে লোডশেডিং হয়েছে। মধ্যরাতে বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।
কোথাও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হয়েছে। ভ্যাপসা গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে ঢাকার বাসিন্দাদের।
রাত ৯টা থেকে দেড়টার মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্কাটন গার্ডেনের কিছু অংশ, মিরপুর, কাজীপাড়া, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মাঝরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং হয়েছে। ঢাকায় মাঝরাতে এত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং আগে তেমন দেখা যায়নি। প্রচণ্ড গরম আর মশার কারণে অনেক এলাকায় ঘুমানো কঠিন হয়ে গেছে। বাসিন্দারা সরকারের কাছে বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
দেশে লোডশেডিং বেড়েছে
চলমান গ্যাস–সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি হচ্ছে। বুধবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গত রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সোমবার এটি বেড়ে হয় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। মঙ্গলবার এটি হয় ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট আর বুধবার ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।
পিডিবি ও আরইবি সূত্র বলছে, ১১ আগস্ট রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং হয় ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৩৪ মেগাওয়াট।
এদিকে গ্যাসের সরবরাহও কমেছে। গতকাল দেশে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট, বিপরীতে চাহিদা ছিল ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার বলেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
Comments