ভাষার আবরণ
আমি একদিন মাতৃভাষাকে রাজকীয় পোশাকে সাজাতে চেয়েছিলাম।
তারা বললো—
তাহলে তাকে দিয়ে জাতীয় সঙ্গীত লেখাও,
সংবিধানের পাতায় বসাও,
রাষ্ট্রীয় মঞ্চের আলোয় দাঁড় করাও।
কারণ যে ভাষা
অনুমতির বাইরে কথা বলে,
সে আবার কিসের রাজভাষা?
আরেকদিন আমি মাতৃভাষাকে
অন্দরমহলে লুকিয়ে রাখতে চাইলাম।
তারা বললো—
রান্নাঘরের আঁচে সেঁকে নাও,
শিশুর প্রথম ছড়ায় গেঁথে রাখো,
ঘরের দেওয়ালে টাঙানো ছবির নিচে লিখে দাও।
কারণ যে ভাষা
শুধু ব্যক্তিগত কষ্ট জানে,
সে নাকি ইতিহাস লেখার যোগ্য নয়।
তারপর একদিন
আমি মাতৃভাষাকে নগ্ন করে দেখতে চাইলাম।
হঠাৎ চারদিকে হাততালি—
এই দেখো! আদিম ভাষা!
উৎসবের মাঝখানে দাঁড় করানো
একটি কাঁচা মাটির পুতুল,
যার শরীরে
এখনো শুকায়নি রক্তের দাগ।
আমি কীভাবে বোঝাবো তাদের—
এই নগ্নতাই তার সবচেয়ে জরুরি জামা।
কারণ এখানে কোনো মঞ্চ নেই,
কোনো ঘোষণাপত্র নেই।
এখানে আছে একটি উচ্চারণ,
যার জন্য একদিন
ফুটপাথে লিখতে হয়েছিল নাম—
মাটিতে, রক্তে, আত্মায়।
এই ভাষা জন্মায় শব্দের আগেই—
শ্বাস আটকে থাকা মুহূর্তে,
সমস্ত উত্তরের আগের প্রশ্নে,
যার উত্তর কোনো বইয়ে লেখা নেই,
কিন্তু
কিছু নির্মোক রক্তজবার মতো
আজও নীরবে ফুটে আছে
ভাষার কাণ্ডে।
Comments