দেশজুড়ে বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ৮২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়ম রোধ এবং সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ ৩৩টি জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৮২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) অধিদপ্তরের ৪৪টি দল একযোগে বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও দাম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ঠেকাতে অভিযান চালানো হয়। হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়।
অভিযান চলাকালে ফলমূলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহার না করা এবং ক্রেতাদের সঠিক ওজনে পণ্য দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে মজুত এবং সরবরাহব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
বাজার তদারকিতে অধিদপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা ও বিভাগের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এদিকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি), উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সঠিক ওজনে পণ্য নেওয়া এবং কেনাকাটার রসিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অনিয়ম, প্রতারণা বা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে ১৬১২১ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে অধিদপ্তর।
Comments