ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সম্মেলন ঘিরে বিক্ষোভ, ঋণ বাতিলের দাবি
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে। ঋণসংকটে জর্জরিত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ঋণ মওকুফ, করপোরেট ভর্তুকি বন্ধ এবং সম্পদশালীদের ওপর বাড়তি কর আরোপের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও সম্মেলনস্থলের দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। এদিন 'অ্যাসেম্বলি অব দ্য পুওর' সংগঠনের প্রায় ৫০০ সদস্য ব্যাংককের লুমফিনি পার্ক এলাকায় জড়ো হয়ে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের (কিউএসএনসিসি) দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সম্মেলনস্থলের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের ৬ দফা প্রধান দাবি:
ঋণ বাতিল: সংকটগ্রস্ত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ঋণ মওকুফ করা এবং বিদেশি ঋণের ওপর জনসাধারণের নজরদারির সুযোগ দেওয়া।
ভর্তুকি পুনর্নির্ধারণ: বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি বন্ধ করে সেই অর্থ কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে ব্যয় করা।
কর ব্যবস্থার সংস্কার: করপোরেট ও ধনকুবেরদের ওপর প্রগতিশীল কর আরোপের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বাড়ানো।
জবাবদিহিতা: কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক করা।
জনগণ ও পরিবেশের প্রাধান্য: অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিক্ষোভ মিছিলে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আইএমএফপ্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাসহ বিশ্বনেতাদের মুখোশ পরা আন্দোলনকারীদের দেখা যায়। এ সময় ডলারের চিহ্নযুক্ত চোখ সংবলিত একটি বড় গোলাপি শূকরের প্রতীকী কাঠামো নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। সম্মেলনস্থলের কাছাকাছি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে কিছু সময় ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণের চাপ, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং জলবায়ুঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এ বছরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অর্থনৈতিক সংকটের বড় খড়্গটি নামছে সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতিমালার কারণে দেশের মানুষের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার পথ রুদ্ধ হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। তবে বিক্ষোভের এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
Comments