দুর্গাপূজায় ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন, ৫ ট্রেনের অফ-ডে প্রত্যাহার
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঘরমুখী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পাশাপাশি যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পাঁচটি ট্রেনের নির্ধারিত সাপ্তাহিক বিরতি বা অফ-ডে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাড়তি কোচ যুক্ত করা, ট্রেন চলাচলে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং স্টেশন ও রেলপথে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পূজাকালীন পরিবহন প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যেসব রুটে চলবে বিশেষ ট্রেন
রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা স্পেশাল-৩ আগামী ২০ অক্টোবর চলাচল করবে। ঢাকা–কক্সবাজার–ঢাকা রুটে ট্যুরিস্ট স্পেশাল-১ ও ২ আগামী ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে চট্টগ্রাম স্পেশাল-৪ চলবে ২৪ অক্টোবর।
পাঁচ ট্রেনের অফ-ডে বাতিল
পূজার সময় যাত্রীদের চাপ সামলাতে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি ট্রেনের নির্ধারিত বিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ১৯ ও ২০ অক্টোবরের অফ-ডে বাতিল করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের ১৯ অক্টোবর, পদ্মা এক্সপ্রেসের ২০ অক্টোবর এবং মধুমতি এক্সপ্রেসের ২৪ অক্টোবরের অফ-ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বাড়ছে কোচ, নিশ্চিত করা হবে ইঞ্জিন
পূজার সময় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য পূর্বাঞ্চলে ২৩টি মিটারগেজ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ছয়টি ব্রডগেজ কোচ যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখা ও বিলম্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের তদারকি বাড়ানো হবে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেন চলাচলে শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রেলপথ ও স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার
রেললাইন ও সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ ও ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে রিলিফ ট্রেনগুলো প্রস্তুত রাখা হবে।
ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ প্রধান রেলস্টেশনগুলোতে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সহযোগিতায় নিরাপত্তা ও পাহারা জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ১৯ ও ২০ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। চলন্ত ট্রেন, স্টেশন কিংবা রেললাইন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলকর্মীদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সেতু বিভাগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, সংশ্লিষ্ট সচিব ও দপ্তরপ্রধানেরা অংশ নেন।
এ ছাড়া ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
Comments