গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় অপতৎপরতা প্রতিহতের আহ্বান রিজভীর
গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় অপতৎপরতা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারীদের ত্যাগ জাতির জন্য প্রেরণার উৎস। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে তারা আত্মত্যাগ করেছিলেন।
তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে আন্দোলনে অংশ নিতে এসে নাজির উদ্দিন জেহাদ স্বৈরাচারী সরকারের গুলিতে প্রাণ হারান। তার আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। ১৯৯০ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। ওই আন্দোলনে শহীদ জেহাদ, ড. মিলনসহ অনেক ছাত্রনেতা ও আন্দোলনকর্মী জীবন উৎসর্গ করেন।
রিজভী আরও বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিজয়ের পরও বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। তবে শহীদদের আত্মত্যাগ পরবর্তী প্রজন্মের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রেরণা জুগিয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। ভাষা আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগের ইতিহাস পরবর্তী আন্দোলনগুলোকে অনুপ্রাণিত করেছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মুগ্ধ ও আহনাফসহ যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগও স্মরণ করেন তিনি।
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে রিজভী বলেন, অতীতে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হলেও প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের সহযোগীরা রয়ে গেছে। দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে দুর্নীতিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অতীতে একজন শিক্ষামন্ত্রীর 'সহনীয় পর্যায়ে দুর্নীতি করা যাবে'—এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এ ধরনের মনোভাবের সমালোচনা করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা সমর্থন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং বন্ধ কারখানাগুলো চালুর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতেও এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করছে। ঈদ, পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে একে অপরের অংশগ্রহণ দেশের ঐতিহ্যের অংশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব ও খন্দকার লুৎফর রহমান। সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
Comments