ভারতের সুদের হার বৃদ্ধি ‘মোদিনমিক্স’-এর জন্য জোরালো সতর্কবার্তা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভালো অর্থনৈতিক সময় আর নেই। হয়তো তা শেষের দিকে চলে এসেছে। কারণ প্রায় চার বছর পর ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক বা আরবিআই প্রথমবার সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনীতির বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।
এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে চাপে ফেলা মূল্যস্ফীতি এবং ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতনের কারণে রিজার্ভ ব্যাংক গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার সামনে সুদের হার বাড়ানো ছাড়া খুব বেশি বিকল্প ছিল না। একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ এবং জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উএদাও।
তবে ভারতের পরিস্থিতি আরও জটিল। বুধবার আরবিআই ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো নীতিগত সুদের হার বাড়িয়েছে। ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতি কমিটি তাদের অবস্থান "নিরপেক্ষ" থেকে "পরিকল্পিত/পর্যায়ক্রমিক কঠোরতা"য় পরিবর্তন করেছে। এর অর্থ হলো, বাজারে এখন নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার কমার সম্ভাবনা নিয়ে আশা করার সুযোগ খুবই কম।
মুদ্রানীতি কমিটি বলেছে, ভবিষ্যতে কতটা এবং কতদিন সুদের হার বাড়ানো হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তার ওপর। বিশেষ করে মূল মূল্যস্ফীতি, মূল্যবৃদ্ধির চাপ কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, সরবরাহ জনিত ধাক্কার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রভাব এবং চাহিদার ওপর এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মালহোত্রার জন্য বুধবারের এই সুদের হার বৃদ্ধি নীতিগত অবস্থানে বড় পরিবর্তন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ধারাবাহিকভাবে সুদের হার কমানোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু গত আগস্টের আরবিআই বৈঠকের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে, তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে ভারতীয় রুপির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, রুপিকে সমর্থন দিতে আরবিআই বাজারে হস্তক্ষেপ আরও জোরদার করায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এক সপ্তাহে রেকর্ড পতন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে রুপি এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল পারফর্ম করা মুদ্রা ছিল। ২০২৬ সালেও একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫ শতাংশে এবং সম্ভবত ৬ শতাংশের দিকে এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রুপির আরও দুর্বল হয়ে পড়া ভারতের জন্য সহজে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একটি ইতিবাচক দিক হলো, ভারতের অর্থনীতি এখনও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতি না করেই সুদের হার বাড়ানোর যুক্তি দেখাতে পারছে আরবিআই।
এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদ গৌরা সেন গুপ্তার মতে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ানোর যুক্তি রয়েছে। তাঁর মতে, এই বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হবে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত নীতিগত সুদের হার যাতে ঋণাত্মক হয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা।
-এশিয়া টাইমর থেকে অনুদিত
Comments