একনেকে আজ ১৩ প্রকল্প, ব্যয় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
প্রস্তাবিত অর্থের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন একনেকের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি একনেকের পঞ্চম বৈঠক। আর বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দশম একনেক সভা। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে আলোচ্যসূচিতে।
উপস্থাপিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়ন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে আরও ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্রকল্পও একনেকে উঠছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় আরও ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মূলত ১ হাজার ৩১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় সংশোধনের মাধ্যমে এরই মধ্যে ২ হাজার ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এবার তা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বাকি ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবনকে ব্যবহার উপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্পও রয়েছে। প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পের অর্থও পুরোপুরি সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।
অন্যদিকে থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ চতুর্থবারের মতো বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা বেড়ে ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ এবং পরবর্তী সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।
সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার একটি নতুন প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার আরেকটি বড় প্রকল্প রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পে সরকারি অর্থায়নের কোনো অংশ রাখা হয়নি।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাবও রয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা হয়। এবার আরও ব্যয় বাড়িয়ে মোট ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
Comments