কী লিখবো ? যা মেনে নেয়া কষ্টের , তা লিখতে কষ্ট আরো বেশি !
ব্যতিক্রমী সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর কাছে সাংবাদিকতা শুধু নয়, আরো অনেক কিছু শিখেছি, অনুসরণের চেষ্টা করেছি । আর কিছু পাবো না !
২০০৩ সালে যখন বিলেত যাই তখন তৌফিকভাই এক সপ্তাহ ছুটি নিয়ে লন্ডন ঘুরিয়েছেন, গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেছেন ব্রাইটন পর্যন্ত। উনি ম্যাপ হাতে দিয়ে হাইওয়েতে চলাচলের জ্ঞান দিয়েছেন,লন্ডন সিটি ম্যাপের A to Z ধরিয়ে পাশে বসিয়ে শিখিয়েছেল মেগা-মেট্রো সিটিতে চলার কৌশল, আমি শিখি আর ঘ্যান ঘ্যান করি, দেশে ফিরে চলেন ।
দেশে ফিরে এসেছিলেনও বিবিসির বুশ হাউস ছেড়ে । ফিরে আসার তদবিরের খেসারত দিয়েছি তাঁর বনানী ডিওএইচএসের বাসার জন্য হোগলাপাতার সোফা কেনার জন্য জীবনপাত করে।তখন দাবি করতাম আমি আপনাকে দেশে ফেরালাম, স্বল্পভাষী তৌফিকভাই ঠোটেঁর কোনে মৃদু হাসি ঝোলাতেন।
প্রথমে একুশে টিভি তারপর BD News 24 . ধানমন্ডি ২৭ এ বিডি নিউজের নিউজরুমের কিউবিকল নিয়ে বিতর্ক করি রাতে স্কয়ার হাসপাতালের নতুন ক্যান্টিনে কফি খেতে খেতে ।
২০০৯ সালে প্রথম আলো ছাড়ার জন্য চাপ এবং নতুন কাজের ভরসার অন্যতম ছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। বিডিনিউজের এপয়নমেন্ট লেটার যত্ন করে রেখেছি, আজো তা খুলে দেখলাম। আরো একবার কথা হয়েছিল, বলেছিলেন আপনি যোগ দিবেন মর্মে অঙ্গীকারপত্র ইংরেজিতে লিখে দিলে তবে এপয়নমেন্ট লেটার পাবেন। সেই চিঠি লেখা হয়নি নতুন টিভি করার লোভে, তবু স্নেহ বঞ্চিত হয়নি কখনই, রাগে লাল হয়েছেন, কিন্তু স্যানিটাইজারে হাত রাব করার মতই ভুলে গিয়ে চোখের ড্রপ দেয়ার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এগিয়ে দিতে, হাত পরিস্কার করে নেবার জন্য।
বিডি নিউজেরও আগে ঢাকায় বসেই 360 Three Sixty করেছিলেন, ওনার জীবনের খুব ছোট চ্যাপ্টার কিন্তু অল্প সময়ে পার্ট টাইম জবের লার্নিংটা এখনো খুব কাজে লাগে।
হায় আর কোনো কিছুই শেখা হবে না, স্বল্প হলেও যতটুকু অভিমান করেছিলেন তারও মীমাংসা হলো না। নিজের খারাপ সময়ে ফোনে শেয়ার করেছেন আবার আমার চরম দুঃসময়ে খোঁজ নিয়েছেন, দমবন্ধ অবস্থায় মায়ের মৃত্যুতে সান্তনা জানাতে দেরি করেননি ।সব ঠিক হবার আশ্বাস দিয়েছেন নিজে অসুস্থ হয়েও। লন্ডন থেকে ফেরার পর দেখা হবে বলেছিলেন, অপেক্ষায় থাকবো !
লেখক: প্রণব সাহা
ফাউন্ডার ও প্রধান সম্পাদক
ট্রাভেলবাংলা জার্নাল
Comments