রমজানের আগে ২ হাজার ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির
আগামী বছরের শুরুতেই—জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পবিত্র রমজান মাসের আগেই তিনটি স্লটে প্রায় দুই হাজার ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইসি মাছউদ জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পাবলিক পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের ভোটগ্রহণ হয়, তবে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রমজানের আগের স্লটগুলো শেষ করে পবিত্র রমজান ও পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষার সময় বিরতি দিয়ে, বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটি প্রাথমিক চিন্তা এবং এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। অন্য এক ইসি কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই স্থানীয় সরকারের এই ইউপি নির্বাচন শেষ করার টাইমলাইন নিয়ে ভাবছে কমিশন। মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইসি মাছউদ জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানানো হয়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখেই কাজ শুরু করা হবে এবং এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকারের এসব নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন দেখছে না কমিশন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে তা ভাবা হতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মতো ইউপি নির্বাচনও যতটা সম্ভব শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি 'ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬'-এর গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী:
চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদের জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ব্যয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের হুমকি বা বাধা প্রদান করলে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনগুলোও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
Comments