দুর্গাপূজা উদযাপনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও তিনদিনের ছুটি ঘোষণা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণসহ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগে এবার পূজার সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত সভা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে পূর্বেকার অন্তর্বর্তী সরকার দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি এক দিন থেকে বাড়িয়ে দুই দিন করেছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তা আরও এক দিন বাড়িয়ে তিন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসী মোট পাঁচ দিনের ধারাবাহিক ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উদ্যাগে প্রতি বছর পূজামণ্ডপগুলোতে প্রদানকৃত সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারের এসব জনবান্ধব সিদ্ধান্তে সনাতন ধর্মের নেতৃবৃন্দ গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান মন্ত্রী।
দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বছর রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি।
পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপস দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে এবং এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানায় যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) শেষে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা বিকল্প জেনারেটর ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অপরাধী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী বা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে। অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা না দেখে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিচার করা হবে; এ ক্ষেত্রে কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও মাটিকাটা জমি দখলের ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা থাকায় রাড্ডার ঘটনার পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিরপুরে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানকালে সংঘর্ষ ও পুলিশ ভ্যান ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি জানান, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় এর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভুল মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জনগণের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
উক্ত সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা ফ্রন্টের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
Comments