পাকিস্তানের আকাশসীমার বিকল্প খুঁজতে চীনের শরণাপন্ন ভারত
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার জট কাটাতে এবার চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের ওপর দিয়ে বিকল্প আন্তর্জাতিক বিমানপথ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানের চলমান আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট পরিচালনার সময় ও জ্বালানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের 'হোতান' অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। দুই দেশের পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলমান রয়েছে।
পাকিস্তানের নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি
এদিকে, ভারতীয় বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও এক দফা বাড়িয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (পিসিএএ) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত করাচি ও লাহোর ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়নে (এফআইআর) ভারতীয় সব ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সম্প্রতি কার্যকর হওয়া নতুন নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ২৪ অক্টোবর ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার সূত্রপাত যেভাবে
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর কড়া জবাবে ভারত 'অপারেশন সিঁদুর' পরিচালনা করে এবং ৩০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানের সব বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানও ভারতীয় বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আকাশসীমা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাগুলো বহালই থেকে যায়। বর্তমানে পাকিস্তানি আকাশসীমা পুরোপুরি এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই চীনের আকাশসীমা ব্যবহারের বিকল্প রুট চালুর ওপর জোর দিচ্ছে ভারত।
Comments