দুদকের ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের 'প্রাথমিক সত্যতা' মিলেছে—দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এমন প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করা হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রিটে মূলত দুটি প্রধান নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে:
সম্মানহানি রোধ: কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুদক যেন এ ধরনের প্রেস ব্রিফিং করে কারও সম্মানহানি না করে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান।
ভুল স্বীকার: আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যটি ভুল ছিল—এটি কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করার নির্দেশনা দেওয়া।
রিট দায়েরের পর আসিফ মাহমুদের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা সাংবাদিকদের জানান, কোনো ধরনের তদন্ত শেষ না করেই বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে জনমনে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে তাকে ঘিরে ব্যাপক 'মিডিয়া ট্রায়াল' শুরু হয়, যা তার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক সুনাম মারাত্মভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, ওই ঘটনার পর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম দুদক বিটের সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তার বক্তব্যটি 'ভুলবশত' দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সংবাদ প্রচারের সময় 'প্রাথমিক সত্যতা' কথাটি বাদ দেওয়ার জন্য তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধও করেছিলেন।
তবে রিটকারীর পক্ষের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া সেই বক্তব্যটি দুদক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি। ফলে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া নেতিবাচক মনোভাব ও মিডিয়া ট্রায়াল এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা প্রতিকারের জন্যই মূলত আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়েছে।
Comments