দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই ঘটনাগুলোকে কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং বর্তমান সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি 'অশনিসংকেত' হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং সারা দেশে দলের আত্মশুদ্ধি অভিযানের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাড্ডা এমসিএইচে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি বিব্রতকর দৃষ্টান্ত। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে অর্ধশত বছর ধরে গরিব-অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতাসীন দল কোন ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে?"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যবস্থার পতনের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক নির্বাচনের জনরায়ে ক্ষমতায় আসা দলের নেতা-কর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড দেশবাসীর মনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সাধারণ জনগণের মানসপটে বিগত সময়ের স্বেচ্ছাচারী আচরণ এখনো সতেজ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা দলীয় নেতা-কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশের চলমান দখলবাজি ও চাঁদাবাজির পরিণতি সম্পর্কে ভাবছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, কেব্ল ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে বলে জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান। কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাগুলোকে তিনি সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতারই অংশ বলে অভিহিত করেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দলীয়ভাবে কিছু বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধের ঘাটতি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সরকার এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ না নিলে এই দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং রাষ্ট্রে পুনরায় দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
পরিশেষে, প্রতিটি ঘটনার যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
Comments