জাতিসংঘে প্রথম দিনেই ১০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রথম দিনেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে তিনি সরাসরি অংশ নিয়েছেন ১০টিতে। দিনের বিভিন্ন আয়োজনে জাতিসংঘের অধিবেশন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ও প্লেনারি কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং এর সাধারণ বিতর্কের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ চলছে ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর।
প্রথম দিনের আঞ্চলিক বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তারেক রহমান। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
এ ছাড়া হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-আইমে'র সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনার বিষয় ছিল বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। এরদোয়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটও ছিল প্রথম দিনের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে নতুন নতুন ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম দিনে নির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে তারেক রহমান ১০টিতে সরাসরি অংশ নেন। সময়সূচির সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি কর্মসূচিতে তার পরিবর্তে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে মেটার সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী ও দুই পক্ষের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তার বক্তব্য। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
Comments