পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের রহস্যভেদ হবে: রাশেদ খান
বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে 'জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট' আয়োজিত 'গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।
বর্তমান বিএনপি সরকারকে একই সঙ্গে দুটি ভিন্নমুখী রাজনৈতিক শক্তিকে সামলাতে হচ্ছে উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, এর একটিকে তিনি 'হঠকারী' এবং অন্যটিকে 'ফ্যাসিস্ট' হিসেবে দেখছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাত মাসের একটি সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের নামে পিকনিক স্টাইলে ছবি ও ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। একদিকে জামায়াত ও এনসিপি লংমার্চের কর্মসূচি দিচ্ছে, অন্যদিকে মাঠে নেমে অরাজকতা তৈরি করছে আওয়ামী লীগ।
সম্প্রতি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া একটি মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে রাশেদ খান বলেন, তিনি দাবি করেছেন যে তাঁদের দাবি মানলে ককটেল আর ফুটবে না। এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এর আসল সত্যতা এবং বাস-ট্রেনে আগুন দেওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে রাজধানীর নেভিগলি এলাকায় বক্তব্য দেন দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে '১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার নয়'—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারসহ তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবিতে তাঁরা রাজপথে আন্দোলন করছেন।
সে সময় ককটেল বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছিলেন, "সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।" তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের সব ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে তাদের কর্মী-সমর্থকদের পক্ষে রাজধানীতে নাশকতা ঘটানোর কোনো সুযোগও থাকবে না।
Comments