সারের পর ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, তবে কি বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে কৃষি?
বহু বছর পর বাংলাদেশের কৃষক সমাজ এক সাথে দ্বিমূখী সংকটে পড়ল। সারের সংকট চলছে। সার না পেয়ে কোথাও কোথাও গুদাম ভেঙ্গে সার নিয়ে গেছে কৃষকরা। আর এ জন্য মামলায় বিপর্যস্ত অনেক কৃষক পরিবার। সারের সংকটের পর এবার ডিজেলের দাম বাড়লো। আমন মৌসুমে অনেক এলাকায় কৃষক সার সংকটে পড়েছেন, কোথাও বাড়তি দামেও সার কিনতে হচ্ছে। এর মধ্যেই ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে, যা নিয়ে মহা ভাবনায় পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকের উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে। সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমের খরচ বাড়ার পর ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে জমি প্রস্তুত, সেচ, ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহন-প্রায় সব পর্যায়ের খরচ বাড়বে। কৃষকের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ২,০৮৮ কোটি টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে কৃষিতে বছরে প্রায় ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন ডিজেল ব্যবহৃত হয়। দাম বাড়ার ফলে কৃষকের বার্ষিক ডিজেল ব্যয় প্রায় ১২,০০৬ কোটি থেকে ১৪,০৯৪ কোটি টাকায় উঠবে।
বোরো নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে বোরো থেকে, আর প্রায় ৮০ শতাংশ সেচ কার্যক্রম ডিজেলনির্ভর। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় চাপ পড়তে পারে বোরো উৎপাদনে। একটা বড় শংকা এই যে, এর ফলে কৃষকের বোরো চাষে অনীহা তৈরি হতে পারে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ধানের দাম সেই অনুপাতে না বাড়লে কৃষক বোরো চাষ কমিয়ে দিতে পারেন, এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা ও কৃষকেরা।
ধানের দাম ও খাদ্যনিরাপত্তা বড় প্রশ্ন উঠেছে। কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে উৎপাদন কমতে পারে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ কমে দাম বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাল আমদানির প্রয়োজন বাড়তে পারে। ডিজেলের প্রভাব শুধু সেচে নয়। কৃষিতে ডিজেল ব্যবহৃত হয় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, ফসল কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও পরিবহনেও। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পুরো কৃষি উৎপাদন-শৃঙ্খলে ছড়িয়ে পড়বে।
কৃষকরা মনে করছেন আমনেই যখন খরচ অনেক বেড়েছে,তখন বোরোতে আরও বেশি সেচের প্রয়োজন হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। সরকারের করণীয় কী তাহলে? কৃষকের বাড়তি ব্যয় সামলাতে ভর্তুকি/প্রণোদনা, ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
Comments