চাকরিতে তদবির করলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, সংরক্ষণ থাকবে ডোসিয়ারে
সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি বা মাধ্যমের দ্বারা তদবির করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির সংক্রান্ত যাবতীয় বিস্তারিত তথ্য কর্মচারীর ব্যক্তিগত ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সরকারের সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারীদের কর্মক্ষেত্রের উপযুক্ত আচরণ ও নিয়মাবলী সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর নির্দিষ্ট ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, 'সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকারি কর্মচারীদের কারো কারো পক্ষে তাদের চাকরি সংক্রান্ত নানাবিধ তদবির করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দ্বারস্থ হচ্ছেন, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।'
নির্দেশনায় জানানো হয়, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি নিজের চাকরি সংক্রান্ত সুবিধার জন্য তৃতীয় কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সুপারিশ বা তদবির করান, তবে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সেই তদবিরের বিস্তারিত বিবরণ কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ডোসিয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করে রাখা হবে।
তবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো কর্মচারী চাইলে তাঁর চাকরি সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে যথাযথ প্রশাসনিক মাধ্যম অনুসরণ করে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন পেশ করতে পারবেন।
নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে এ ধরনের আবেদন পেলে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষকে তা সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিক ও নিয়মসম্মতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এই বিষয়ে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন সমস্ত দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার জন্য চিঠিতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Comments