কমেনি ডিম-মুরগির দাম, মাছেও স্বস্তি নেই
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে ডিম ও মুরগির দাম এক মাসের বেশি সময় ধরে চড়া। এর সঙ্গে বেশ কিছু মাছ ও মৌসুমি সবজির দামও বেড়েছে। ফলে কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফিরছে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে বর্তমানে ফার্মের ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এক মাসেরও বেশি সময় আগে এর দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। একই সময়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৮০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক মাসে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে বিভিন্ন খামারে মুরগি মারা গেছে। অনেক খামারি পরবর্তী সময়ে নতুন করে উৎপাদন শুরু করেননি। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার কারণেও কিছু খামারে মুরগি পালন কমেছে। এতে ডিম ও মুরগির সরবরাহে প্রভাব পড়ে দাম বেড়েছে।
সোনালি মুরগির দামও গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ডের দাম তুলনামূলক কম, প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা।
রাজধানীর তাজমহল রোডের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, পরিবারের খাবারের জন্য সাধারণত মুরগির মাংসই বেশি কেনা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এর দাম বেশি থাকায় কম আয়ের মানুষের জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাছেও বাড়তি দাম
ডিম-মুরগির পাশাপাশি মাছের বাজারেও বেড়েছে কয়েক ধরনের মাছের দাম। বর্তমানে তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে এগুলোর দাম ছিল যথাক্রমে ২০০-২৩০ টাকা ও ১৮০-২২০ টাকা।
রুই-কাতলার দামও আকারভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুইয়ের দাম অবশ্য ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে।
চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। পাবদার দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি। মাছের আকার ও মানভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে।
সবজিতেও মৌসুমি প্রভাব
মৌসুম পরিবর্তনের কারণে বেশ কিছু সবজির দামও বেড়েছে। বর্তমানে গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মার্চের তুলনায় বেগুনের দাম ধরনভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।
টমেটোর দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও মার্চে এর দাম ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আগাম শিমের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।
হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ৮০ টাকা, পটোল, ঢ্যাঁড়স ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে; বর্তমানে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা।
তবে কিছু সবজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল বা কমেছে। করলা বর্তমানে ৮০ টাকা কেজি, যা মার্চে প্রায় ১০০ টাকা ছিল। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।
বাড়তি চাপ অন্যান্য পণ্যে
নিত্যপণ্যের বাজারে সয়াবিন তেলের দামও সম্প্রতি বেড়েছে। ২ সেপ্টেম্বর থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে।
খোলা চিনির দামও বেড়েছে। এক মাস আগে প্রতি কেজি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা থাকলেও এখন তা ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মোড়কজাত চিনির কেজি ১২০ টাকা।
সুগন্ধি বা পোলাও চালের দামও এখনো ২০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সম্প্রতি এ ধরনের চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
টাউন হল বাজারের ক্রেতা আবির হাকিম বলেন, ছয় মাস আগের তুলনায় বাজারের খরচ বেড়েছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও ডিম, মাছ ও বিভিন্ন সবজির বাড়তি দামে স্বস্তি নেই। একই পরিমাণ পণ্য কিনতে এখন আগের চেয়ে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে সবজির দামে ওঠানামা স্বাভাবিক। তবে ডিম ও মুরগির বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দ্রুত দাম কমার সম্ভাবনা কম। সব মিলিয়ে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর বাজারের বাড়তি চাপ এখনো রয়েছে।
Comments