ডিআর কঙ্গোয় স্কুলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২৯ শিশু
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আগুনে দুটি স্কুল ও আশপাশের কয়েকশ ঘর পুড়ে গেছে। ধোঁয়ায় অসুস্থ ও আহত হয়ে আরও বহু শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এএফসি/এম২৩-এর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় একটি বসতিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত তা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং উজামা প্রাইমারি স্কুল ও ফুরাহা সেকেন্ডারি স্কুলে পৌঁছে যায়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ পরিচালিত রেডিও ওকাপি।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে বের হওয়ার সময় অনেকে পড়ে যান এবং পদদলিত হন। কেউ কেউ আগুন থেকে বের হতে গিয়ে বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করেন। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত ও অচেতন হয়ে পড়েন।
দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপ-গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে জানিয়েছেন, আগুনে দুটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে।
এএফসি/এম২৩-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ২৯ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে ১৭ জন কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং চারজন বুকাভু প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, সেখানে প্রায় ৫০ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। অধিকাংশের অবস্থা ছিল গুরুতর, বিশেষ করে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। কয়েকজন ঘটনাস্থলে এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।
আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে আগুনে বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়তে দেখা গেছে। পরে আগুনের শিখা পাশের দুটি স্কুলেও ছড়িয়ে পড়ে।
বুকাভু শহরটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পূর্ব ডিআর কঙ্গোর খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চালিয়ে আসছে।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যাও চূড়ান্ত নয়।
এএফসি/এম২৩ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
বুকাভুতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববারের একটি আগুনে ৪৫টির বেশি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
Comments