নবম পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনে বড় পরিবর্তন
নবম জাতীয় পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে বর্তমান নিট পেনশনের সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সব পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে একই হারে এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে না। কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে যাদের পেনশনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হবে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান নিট পেনশনের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি স্তরে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
কার পেনশন কত বাড়বে ?
বর্তমানে ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনধারীদের জন্য বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে কোনো পেনশনভোগী মাসে ৯ হাজার টাকা নিট পেনশন পেলে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির পর তিনি ১৮ হাজার টাকা পাবেন। একইভাবে ২০ হাজার টাকা পেনশন হলে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে তা দাঁড়াবে ৩৫ হাজার টাকা।
৩০ হাজার টাকা নিট পেনশনের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ বাড়লে নতুন পরিমাণ হবে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। আর ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬৪ হাজার টাকা। ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনধারীদের জন্য প্রস্তাবিত বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ।
তবে চূড়ান্তভাবে পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণের সময় অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে থাকা বিধান, নির্ধারিত সীমা এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এখনই কার্যকর হচ্ছে না 'এক পদ এক পেনশন'
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অন্যতম আলোচিত বিষয় 'এক পদ এক পেনশন' বা 'এক গ্রেড এক পেনশন' (ওআরওপি) ব্যবস্থা। তবে নবম জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে এটি পুরোপুরি চালু করা হচ্ছে না।
সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই পদ বা গ্রেড থেকে ভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের পেনশনের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে, তা কমানোই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
বর্তমান কাঠামোয় একই পদে কর্মরত থাকলেও অবসরের সময়ের পার্থক্যের কারণে পুরোনো ও নতুন পেনশনভোগীদের মধ্যে পেনশনের পরিমাণে বড় ব্যবধান দেখা যায়। ওআরওপি চালু হলে একই পদ বা গ্রেডের অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে এই ব্যবধান অনেকটাই কমে আসবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক—দুই ক্ষেত্রেই একই সময়ে ওআরওপি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে একবারে এটি কার্যকর করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে 'এক পদ এক পেনশন' ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Comments