নেপালে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৪৬ জনের বেঁচে থাকার জোরালো আশা
হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী ঢলের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সুড়ঙ্গে আটকে পড়া অনেক কর্মী এখনো বেঁচে আছেন বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে ৪৬ জন কর্মী এখনো জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল ও চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসের কারণে সৃষ্ট তীব্র পানির ঢল ও কাদা-পাথরের তোড়ে গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ভেসে গেছে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। পুনর্গঠনে ৫শ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রবল কাদা ও পাথরে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেলেও ভেতরের বাতাসের বুদ্বুদ বা 'এয়ার পকেট'-এর কারণে শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ২৭১ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার ৯ দিন পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে ৪৬ জন মানুষ এখনো জীবিত আছেন বলে গত বুধবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কর্মকর্তারা। ওই ভবনের ভেতরে খাবার ও পানি থাকায় তাঁরা দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের পর্ষদ সদস্য অংশু কিরণ শাহি।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলায় এখনো কেবল হেলিকপ্টার ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব। নিখোঁজ স্বজনদের অনেকেই সুড়ঙ্গের ভেতরে তাঁদের প্রিয়জনদের জীবিত পাওয়ার আশায় অলৌকিকের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
এদিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের আশা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ এই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। নেপাল সরকারের পাশাপাশি ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা এই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
Comments