পাকিস্তানের করাচিতে তীব্র বিদ্যুৎ ও পানি সংকট: জনরোষে অচলাবস্থা
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানি সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই গণআন্দোলনের জেরে শহরের প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ হয়ে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার নতুন করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে হাজার হাজার যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে পড়েন। এমনকি রাস্তা অবরোধের কারণে জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোও তীব্র যানজটে আটকা পড়ে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, শহরের ভঙ্গুর নাগরিক সেবার ওপর দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এই একের পর এক বিক্ষোভ।
ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে বাসিন্দারা গুড লাক ম্যারেজ হলের কাছে মাংঘোপির রোড অবরোধ করেন, যার ফলে লিয়ারি এক্সপ্রেসওয়ে টোল প্লাজার দিকে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এই অবরোধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে লাসবেলা চক, নিস্তার রোড, গুরুমন্দির, তিন হাট্টি এবং নাজিমাবাদের আশপাশের এলাকায়। এছাড়া সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দারুল উলুম কোরাঙ্গির কাছে কে-ইলেকট্রিক অফিসের বাইরে আরেকটি বড় বিক্ষোভ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কোরাঙ্গি ও মুর্তাজা চৌরাঙ্গির মধ্যবর্তী ৮ হাজার রোডের উভয় দিক বন্ধ করে দেন।
জনরোষের মুখে থাকা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কে-ইলেকট্রিক এই সংকটের জন্য ব্যাপক হারে বিদ্যুৎ বিল খেলাপি এবং বিদ্যুৎ চুরিকে দায়ী করেছে।
কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, শরাফি গোথ, গরীবাবাদ ও পাক কলোনির মতো এলাকাগুলোতে বকেয়া বিলের পরিমাণ লাখ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস বা লোকসানের পরিমাণ ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
Comments