ভূমি অফিসে অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে ডিসিদেরে ১৪ নির্দেশনা
ভূমিসেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং দালাল ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন নিশ্চিতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিস নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ জন্য জেলা প্রশাসকদের ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক জেলার ভূমি প্রশাসনের প্রধান হিসেবে মাঠ পর্যায়ের সব ভূমি অফিসের কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ভূমিসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, নাগরিক হয়রানি হ্রাস, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
ডিসিদের ১৪ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে-
১. ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে।
২. ভূমিসংক্রান্ত আবেদন, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা, রেকর্ড সংশোধনসহ অন্যান্য সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
৩. ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে ভালো আচরণ, হয়রানিমুক্ত পরিবেশ এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে।
৪. অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য আইসিটিভিত্তিক সেবার কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।
৫. দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৬. সেবা প্রদানের নির্ধারিত ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শিত রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 'ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম' যথাযথভাবে ব্যবহার এবং দাখিল করা অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
৮. অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, রেকর্ড ব্যবস্থাপনা, তথ্য বোর্ড, নাগরিক সনদ, সেবার মানদণ্ড ও নির্দেশনা হালনাগাদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
চ
৯. সরকারি সম্পদ, কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার সংযোগ ও অন্যান্য আইটি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
১০. ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করতে হবে।
১১. ভূমি আইন, বিধি, পরিপত্র ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
১২. 'ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
১৩. আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে। পরিদর্শনে সমস্যা, অনিয়ম বা সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হলে এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
১৪. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে একটি মাসিক প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
Comments