পরপর ৩ সরকারের রাষ্ট্রপতি, এবার কি তবে পদত্যাগ?
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নাটকীয় অধ্যায়ের সম্ভবত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। বিতর্কিত রাজনৈতিক পটভূমি ও বর্তমান সরকারের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। ১ মেয়াদে পরপর ৩ সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই ব্যক্তির জীবনের নানা চমক ও সাম্প্রতিক টানাপোড়েন নিয়েই বলছি আজ।
রাষ্ট্রপতির নাটকীয় উত্থানের শুরু
ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ নেতা, পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা ও দায়রা জজের বিচারক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। কর্মজীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৩ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
এক মেয়াদে ৩ সরকার
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী তিনি। মাত্র এক মেয়াদের রাষ্ট্রপতিত্বেই তিনি পরপর তিনটি ভিন্ন সরকারের মুখোমুখি হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব নিলেও, পরবর্তীতে গঠিত অন্তরবর্তী সরকারের সময়ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহাল থাকেন। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবেও বর্তমানে বহাল তিনি।
অন্তরবর্তী সরকারের সময় টানাপোড়েন
অন্তরবর্তী সরকারের সাথে রাষ্ট্রপতির কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক না হওয়া, তাঁর প্রেস উইং বাতিল ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে ছবি সরিয়ে নেওয়ায় তিনি গভীর অপমানবোধে ছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে। শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে এক মন্তব্যের জেরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তীব্র সংকটে পড়েন রাষ্ট্রপতি। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে তার তীব্র সমালোচনা করা হয়। এমনকি বঙ্গভবন ঘেরাও করে তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে। তৎকালীন সরকার তাকে অনেকটা একঘরে ও গুরুত্বহীন করে রেখেছিল।
বিএনপি সরকারে গুরুত্বহীনতা
বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতার দিকে এগোচ্ছিল, তখন প্রথম দিকে বিএনপি হাইকম্যান্ড ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির প্রতি নমনীয় ও ভালো আচরণ আচরণ করলেও, বর্তমানে তাঁকে আর সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেনা। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাকে পদে রাখার পক্ষেই ছিল দলটি। কিন্তু বিএনপি পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠনের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। রাষ্ট্রপতির থেকে দূরত্ব বজায় রাখা রাখছে সরকার। এমনকি পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পর, রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক পরিচয় ও নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পদত্যাগের গুঞ্জন চরমে
সব মিলিয়ে নানা নাটকীয়তার পর রাজনৈতিক মহলে জোরালো গুঞ্জন, যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে খুব দ্রুতই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় এক রাষ্ট্রপতিত্বের কি তবে অবসান ঘটতে চলেছে? রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এই অদ্ভুত ও নাটকীয় যাত্রার পর, শেষ পর্যন্ত তিনি বঙ্গভবন ছাড়বেন কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Comments