ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে আটক
মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট' (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতে চলমান আন্দোলন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সোমবার ককরোচ মুভমেন্ট দাবি করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে চলা এই বিক্ষোভের মধ্যেই সিজেপির দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তাঁরা মন্ত্রীর কাছে লিখিত দাবি উপস্থাপন করেছেন। নাড্ডা বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন এবং বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান সিজেপি মুখপাত্র।
এর আগে, পূর্বঘোষিত 'সংসদ চলো' কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। সিজেপি ও তাদের সমর্থকেরা ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে জমায়েত হয়ে সংসদ ভবনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এলাকাটিতে বড় জমায়েতে আগেই নিষেধাজ্ঞা ছিল। পুলিশি বাধা ও লাঠিচার্জে আন্দোলনকারীদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবা তীর্থ—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে রাজীব চকের মতো ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনে আটকা পড়েন শত শত যাত্রী, সৃষ্টি হয় তীব্র ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন মুভমেন্ট হিসেবে অভিজিৎ দীপকে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন। আন্দোলনকারীরা নিজেদের 'ককরোচ' বা তেলাপোকা পরিচয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন এবং এটি অল্প সময়েই ব্যাপক তরুণপ্রিয়তা পায়। গত এক মাস ধরে তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।
এই আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। টানা তিন সপ্তাহের অনশনে তাঁর ওজন ৯ কেজির বেশি কমে গেছে এবং তিনি মারাত্মক শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গত শনিবার পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক যন্তর মন্তর থেকে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে হাসপাতাল থেকেও একটি হাতে লেখা চিঠিতে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে একে 'ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন' বলে আখ্যা দিয়েছেন ওয়াংচুক। নিজেকে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি আন্দোলনকারীদের 'সংসদ চলো' অভিযান সফল করার আহ্বান জানান। এদিকে ওয়াংচুক চিকিৎসাধীন থাকায় আন্দোলনের নেতৃত্বের হাল ধরেছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো।
টানা তিন সপ্তাহের অনশনের কারণে ওয়াংচুক বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
কথিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ওয়াংচুক এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। তার বার্তায় তিনি আন্দোলনটিকে 'ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন' হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অবিচার এবং তার ভাষায় অবৈধ আটকের মতো ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
Comments