কানাডার দাবানলে ধোঁয়ার চাদরে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু
কানাডার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ আকাশ। কানাডার সীমানা ছাড়িয়ে এই বিষাক্ত ধোঁয়া এখন গ্রাস করেছে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি অঙ্গরাজ্যকে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, আগামী রোববার নিউজার্সির যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে আর্জেন্টিনা-স্পেনের মধ্যকার ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, দৃষ্টিসীমা নেমে আসায় খানিক দূর থেকে সেটিও এখন দেখা যাচ্ছে না।
কানাডাজুড়ে বর্তমানে ৮৫৮টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১১১টি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইতিমধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় ৫৯ লাখ একর বনাঞ্চল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: মানিটোবা, সাসকাচিউয়ান এবং অন্টারিও প্রদেশে আগুনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। অন্টারিও'র উত্তরাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নিজেদের আদি ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন আদিবাসী 'ফার্স্ট নেশন' গোষ্ঠীর মানুষ। দেশটির প্রধান শহর টরোন্টোর বাসিন্দারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই পুরো শহরকে ধূসর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখছেন। বাতাসে ধোঁয়ার পোড়া গন্ধ স্পষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছে।
সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্কি কার্নি বলেন, 'দেশজুড়ে দাবানলে হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। মানিটোবায় বন্যার মতো ছড়াচ্ছে আগুন। আমি আমাদের সাহসী দমকলকর্মী এবং স্থানীয় ও আদিবাসী মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যারা জীবন বাজি রেখে আগুন নিয়ন্ত্রণে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।'
উত্তর-পশ্চিমমুখী বাতাসের কারণে কানাডার এই ঘন কালো ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্ক ও নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ইলিনয়ের শিকাগো, মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডস, পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ এবং ওহাইও'র টোলেডোতে বাতাসের মান (AQI) মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউইয়র্কে জারি করা হয়েছে জরুরি সতর্কতা। ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা পড়েছে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ও স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো বিখ্যাত সব স্থাপনা। সিওপিডি ও অ্যাজমা রোগীরা তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। সাধারণ মানুষ বাইরে বের হতে মাস্ক ব্যবহার করছেন।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নগরবাসীকে সতর্ক করে বলেন, 'কানাডার দাবানলের ধোঁয়া আমাদের শহরের ওপর বয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ু দূষণের দিক থেকে আজকের দিনটি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হবেন না।'
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উত্তরপশ্চিমমুখী বাতাসের কারণে চলতি সপ্তাহজুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চল এই ধোঁয়ার কবলে থাকবে। তবে আগামী সোমবার নাগাদ বাতাসের গতিপথ পাল্টালে ধোঁয়া কুইবেকের দিকে সরে যেতে পারে।
আপাতত বিশ্ব ক্রীড়ামোদীদের চোখ নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে। আগামী রোববারের ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচের আগে এই বিষাক্ত ধোঁয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তা খেলোয়াড় ও দর্শকদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Comments