মার্কিন ভোট ব্যবস্থায় ‘ভয়াবহ দুর্বলতা’, ২০২০-এর নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরুর মুখে মার্কিন নির্বাচনি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ভোট ব্যবস্থায় 'ভয়াবহ দুর্বলতা' রয়েছে দাবি করার পাশাপাশি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের পক্ষে চীনের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিশেষ প্রাইমটাইম ভাষণে তিনি এই দাবি করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে দেওয়া আধা ঘণ্টার এই ভাষণে ট্রাম্প তাঁর পুরোনো ভোট জালিয়াতি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগগুলোই নতুন করে সামনে এনেছেন।
ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা উপস্থিত থাকলেও সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, বেইজিং কর্তৃক জো বাইডেনের পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টার সমর্থনে তিনি কয়েকশ 'গোয়েন্দা নথি' অবমুক্ত করেছেন। চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২২ কোটি ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত ফাইল সংগ্রহ করেছে। মার্কিন ভোটদান যন্ত্রগুলো রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো বিদেশি প্রতিপক্ষের সাইবার হামলার প্রতি 'অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ' অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ১৮টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তথ্য চীন 'কিনেছে, চুরি করেছে বা হ্যাক করেছে'। তবে সংগৃহীত এই তথ্য কীভাবে নির্বাচনের ফল বদলে দিয়েছে, সে সংক্রান্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক দাবি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত।
মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে 'উচ্চ আস্থার' সঙ্গে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেনি। কারণ বেইজিং নির্বাচনি ফলাফল বদলে দেওয়ার চেয়ে ধরা পড়ার ঝুঁকিকে বেশি ক্ষতিকর মনে করেছিল।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বেইজিং কখনোই মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা। তাদের অভিযোগ, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করতেই ট্রাম্প এই ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছেন। সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "পরিষ্কার করে বলা যাক—আমেরিকায় ভোটাররা তাদের নেতা নির্বাচন করেন, নেতারা ভোটার নির্বাচন করেন না।"
সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কমে মাত্র ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের একটি বড় অংশ বর্তমান প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসমর্থনের এই ধস ঠেকাতেই ট্রাম্প নতুন করে 'বিদেশি হস্তক্ষেপের' কার্ড খেলছেন।
Comments