পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে বাড়ি দেবে সরকার: দুর্যোগমন্ত্রী
প্রতিবছর পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে খাস জমিতে পুনর্বাসন করে স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ করে দেবে সরকার। এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
দুর্যোগমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জন মারা গেছেন; যার মধ্যে চট্টগ্রামে ৫ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙামাটিতে ১ জন এবং বান্দরবানে ৫ জন রয়েছেন।
ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার মানুষের জন্য সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবারের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় খাদ্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রথম দফায় (৭ জুলাই) দুর্গত প্রতিটি জেলায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা (জিআর ক্যাশ) এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় (অতিরিক্ত বরাদ্দ) পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত ২৫ লাখ টাকা ও ৩০০ মেট্রিক টন চাল; কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ২৫০ মেট্রিক টন চাল এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নিজস্ব ত্রাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ অনুদান দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজেই এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থান করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, "পাহাড়ের নিচে বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসের কারণে প্রতিবছরই বর্ষাকালে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের অধীনে থাকা খাসজমি ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে এবং তাদের জন্য নিরাপদ বাড়ি নির্মাণ করা হবে।"
ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে যেন আর একটি প্রাণও না ঝরে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সংসদ অধিবেশন মূলতবি থাকার সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করার এবং স্থানীয় পর্যায়ে পুনর্বাসনের জন্য জনসচেতনতা তৈরি করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
Comments