প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬,২৩৫ প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ শুরু হচ্ছে দ্রুতই
দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। একই সাথে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কারণে শূন্য হওয়া সহকারী শিক্ষকের পদগুলোতেও দ্রুত নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, জাতীয়করণ হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রিটি) নির্ধারণে ৫০ শতাংশ কাজের অভিজ্ঞতা গণনার দাবিতে ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এর ফলে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি থমকে ছিল।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সাথে ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিলে গত সপ্তাহে আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে সরকারের অবস্থান বহাল থাকে এবং দীর্ঘদিনের এই আইনি জটিলতার স্থায়ী অবসান ঘটে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "এটি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। এখন শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।" সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান: সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে দ্রুত ওরিয়েন্টেশন শেষে বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে। আগে ৯ মাসের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ থাকলেও বর্তমান শিক্ষক সংকট কাটাতে প্রাথমিকভাবে ২ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ক্লাসে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
শুধু প্রাথমিক নয়, সরকারি হাইস্কুলগুলোতে প্রায় ৪ হাজার এবং সরকারি কলেজগুলোতেও প্রায় ৪ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই পিএসসি (বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন) চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে দ্রুত শূন্য পদের চাহিদাপত্র পিএসসিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিএসসি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন যে, চাহিদাপত্র পেলে বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুততম সময়ে বিসিএস নন-ক্যাডার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় এই শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্তর থেকেই দক্ষ, নৈতিক ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। এজন্য আনন্দময় পরিবেশ, খেলাধুলা ও নৈতিক মূল্যবোধকে সমন্বয় করে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সাজানো হচ্ছে।"
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "অতীতে অনেকে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় বসে যেত। তবে এবার শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার কারণে অপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কেউ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। মূলত এই কড়াকড়ির কারণেই এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।"
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
Comments