বেইজিংয়ে তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক আজ: সই হচ্ছে ১৫টি সমঝোতা স্মারক
বেইজিংয়ে এক ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র জানান, চীন সফরকালে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বেইজিংয়ে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়। চীনা মন্ত্রী এই খাতে গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সফরের অংশ হিসেবে সকালে বিডা ও চায়না কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চীনের ৮০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অধীনে আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া এখন থেকে বিনিয়োগকারীদের ১৫ দিনের কম সময়ে নতুন লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি 'পার্টি-টু-পার্টি' বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চীনা পক্ষ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্মরণ করা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্কের ভিত্তি গড়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া সাতটি সফরের মাধ্যমে তা সুদৃঢ় করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতায় 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতি বজায় রেখে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
Comments