স্বাস্থ্য খাতে মেগা বরাদ্দ: বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি
দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও চিকিৎসা খাতকে ঢেলে সাজাতে নতুন বাজেটে নজিরবিহীন বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই ঐতিহাসিক বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এটিই প্রথম বাজেট।
বাজেট নথি অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা ছিল দেশের মোট জিডিপির মাত্র ০.৫৮ শতাংশ। সেই তুলনায় স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো ও জনবল উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কমিয়ে আনতে এবার প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ বাড়াল নতুন সরকার।
চলতি অর্থবছরের বাজেটের খসড়ায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মোট ১৩টি বিশেষ ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল করা।
- দেশের প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
- চলমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে দ্রুত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার।
- উচ্চতর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন।
- বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং দেশজুড়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব আয় ও উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যকার বিশাল ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার মূলত অভ্যন্তরীণ খাত এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করবে। এর মধ্যে ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা ব্যাংক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
Comments