কারসাজির বিরুদ্ধে ‘রিয়েলটাইম’ অ্যাকশন- বিএসইসি চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজারে যেকোনো ধরনের কারসাজি ও অনিয়ম রোধে এবার 'রিয়েলটাইম' বা তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে যেখানে প্রয়োজন সেখানে স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়মকানুন সহজ করার মাধ্যমে বাজারকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটালাইজড করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুনে) দুপুরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
এর আগে, আজ সকালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগ করে। এরপরই দুপুরের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে নতুন কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। দায়িত্ব পেয়েই বেলা সোয়া তিনটায় কমিশনারদের সঙ্গে নিয়ে আগারগাঁওয়ের বিএসইসি কার্যালয়ে আসেন নতুন চেয়ারম্যান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান কারসাজিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বলেন: 'কারসাজিকারকদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি ও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এবং সেটি হবে 'রিয়েল টাইম' ব্যবস্থা। কারসাজি নিয়ন্ত্রণে শুরু থেকেই 'জেড' শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। বিএসইসির সব ধরনের কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষা।'
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শেয়ারের মূল্য কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ বা বাজারের স্বাভাবিক উত্থান-পতন ঠেকানোর কোনো অনুচিত পদক্ষেপের সঙ্গে নতুন কমিশন যুক্ত হবে না। বরং শেয়ারের বাজারভিত্তিক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।
প্রায় ৩০ মিনিটের লিখিত বক্তব্যে নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনের দর্শন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো: ১. স্মার্ট রেগুলেশন: যেখানে প্রয়োজন কঠোর ও স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ২. পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন: ধীরগতি পরিহার করে প্রযুক্তি ও রিয়েলটাইম তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ। ৩. ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি: ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির নতুন ও কার্যকর কাঠামো তৈরি। ৪. বিনিয়োগ বৃদ্ধি: বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। ৫. সুশাসন ও স্বচ্ছতা: বাজারে ধারাবাহিকভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চার বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া এই নতুন কমিশনের সদস্যরা হলেন: চেয়ারম্যান: মাসুদ খান (ক্রাউন সিমেন্টের গ্রুপ সিইও এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান)। কমিশনার: নাহিদ মাহতাব (আইনজীবী)। তানভীর হাবিব রহমান (আশা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা) এবং নাফিজ আল তারিক (ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক)।
Comments