রুশ বাহিনীতে বিক্রি: ৩০ বাংলাদেশি যুবককে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা
উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে পাঠিয়ে প্রতারণা ও রুশ সেনাবাহিনীর কাছে 'বিক্রি' করে দেওয়ার অভিযোগে ৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন।
প্রতারণার শিকার যুবকদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ায় পাঠানো এই ৩০ বাংলাদেশিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি ভিত্তিতে ফোন করে ভুক্তভোগীদের সার্বিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে পাঠানোর মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো চক্র, সংস্থা বা ব্যক্তিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো এজেন্সির অসততার কারণে আমরা আমাদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেব না।' ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তদারকি আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে জাবালে নূরসহ কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র এই যুবকদের রাশিয়ায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা পেয়ে যে ৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো: আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫), টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশ গমনেচ্ছু নাগরিকদের যেকোনো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে লেনদেনের পূর্বে তাদের বৈধতা ও কাজের শর্তসমূহ সঠিকভাবে যাচাই করার জন্য পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের সুবিধার্থে নতুন 'প্রবাসী কার্ড' চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, "প্রবাসী কার্ড চালু হলে আলাদা করে আর বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজন থাকবে না। একজন প্রবাসী যাতে একটি মাত্র কার্ড ব্যবহার করেই সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারেন, আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।"
কার্ডের সুবিধাগুলো এখনো চূড়ান্ত করা না হলেও এর মাধ্যমে সহজ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানো, কারেন্সি বা মুদ্রা সুবিধা, ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ে এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্রসহ ট্র্যাকিং সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
Comments