মেট্রোরেলে অস্বাভাবিক ব্যয় কমাতে বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সিদ্ধান্ত
দেড় বছর ধরে থমকে থাকা জাপানি অর্থায়নের দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প (এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন) পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে জাপানি ঠিকাদারদের প্রস্তাবিত অস্বাভাবিক ব্যয় পর্যালোচনা ও দরকষাকষি করতে আন্তর্জাতিক কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং পেশাদার নেগোশিয়েটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২০ মে) সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পগুলোর সার্বিক অগ্রগতি, বিদ্যমান স্থবিরতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
২০১৯ সালে অনুমোদিত বিমানবন্দর-কমলাপুর (এমআরটি লাইন-১) এবং হেমায়েতপুর-গুলশান-ভাটারা (এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন) প্রকল্পের মূল ডিপিপিতে অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে জাপানি ঠিকাদার ও পরামর্শকরা প্রায় ৮৩ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি খরচের প্রস্তাব দিলে জটিলতা তৈরি হয়।
মূল ডিপিপিতে দুই প্রকল্পের জন্য প্রথমে ৫২,৫৬১.৪৩ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ঠিকাদাররা তা বাড়িয়ে ৯৬,৪২২.৭০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়। আমিনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের একটি প্যাকেজে যেখানে প্রথমে ১৩,৯৬৬.২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল, ঠিকাদাররা দরপত্রে তা বাড়িয়ে ৩০,৮৬৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করে।
বাংলাদেশে আগে কখনো আন্ডারগ্রাউন্ড (ভূগর্ভস্থ) মেট্রোরেল না হওয়ায় ঠিকাদাররা অতিরিক্ত ঝুঁকি বিবেচনা করে এই বাড়তি ব্যয় ধরেছে। ঢাকা শহরের মাটির গঠন, ঘনবসতি, টানেল খননের সময় আশপাশের ভবনের ক্ষতিপূরণের ঝুঁকি এবং ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি)-এর বিষয়গুলো এর পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পেশাদার নেগোশিয়েটর নিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "তারা কেন ব্যয় বেশি দিয়েছে, সেটা জাস্টিফাই করবে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ কীভাবে একই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেটাও তাদের জানানো হবে। আমাদের স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষা করতেই এই পেশাদার বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।"
প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে দরপত্র প্রক্রিয়া ও ঋণ শর্তে কিছু সংস্কারের কথা ভাবছে সরকার। স্টেকহোল্ডারদের মতে, জাপানি ঋণের শর্তের কারণে ঘুরেফিরে দুই-তিনটি জাপানি কোম্পানিই দরপত্রে অংশ নেয়, ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থাকে না। বাংলাদেশ পক্ষ বর্তমান দরপত্র বাতিল করে নতুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের কথা ভাবছে।
Comments