এবার ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে একের পর এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। এবার উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল 'চিকেনস নেক' (Chicken's Neck) তথা শিলিগুড়ি করিডোরের ১২০ একর জমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা এবং সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহনের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সাথে কোনো আপস করা হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সুবিধার্থে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে (BSF) জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এবার উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেকের নিরাপত্তা সুসংহত করতে শিলিগুড়ি করিডোরের এই বিশাল জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এই জমি হস্তান্তর প্রকল্পটি দীর্ঘকাল আটকে ছিল। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথেই ফাইলবন্দি এই প্রকল্পে গতি এসেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি থাকা এই জমিগুলো হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মসৃণ করতে শুধু জমি নয়, রাজ্যের অধীনে থাকা শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সড়ক ইতিমধ্যেই ভারতের জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ বা 'ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি'র (NHAI) হাতে তুলে দিয়েছে শুভেন্দু সরকার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সড়কগুলো হলো:
-
হাসিমারা–জয়গাঁও হয়ে ভারত-ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ।
-
বারাদিঘি–ময়নাগুড়ি–চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ।
-
শিলিগুড়ি (দার্জিলিং মোড়)–কার্শিয়াং–দার্জিলিং সম্পূর্ণ অংশ।
এই সড়কগুলোর আধুনিকায়ন ও প্রসারণের কাজ শেষ হলে সীমান্ত এলাকায় ভারী সামরিক যান ও রসদ পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক গতি আসবে। এর ফলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় থাকা সেনাঘাঁটিগুলোতে দ্রুত যুদ্ধ সরঞ্জাম, রেশন ও সৈন্য পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর তথা 'চিকেনস নেক'-কে দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চীনের তিব্বত সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি থাকা এই করিডোরটি মাত্র ২২ থেকে ৩৫ কিলোমিটার চওড়া। দেখতে মুরগির গলার মতো সরু বলেই একে 'চিকেনস নেক' বলা হয়।
এটিই মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার্স) ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার একমাত্র স্থলপথ। এই করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, সম্প্রতি ভারতের সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে যে ৩১টি জায়গায় বিশেষ 'মক ড্রিল' বা মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার মধ্যে ১৭টি মহড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে এই চিকেনস নেক এলাকায়।
Comments