বিএটি বাংলাদেশের বড় লোকসান: সিগারেট বিক্রি ১৪% ও মুনাফা ৩৪% হ্রাস
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, করের বোঝা এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রভাবে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যবসায় বড় পতনের মুখে পড়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ। বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির সিগারেট বিক্রির পরিমাণ এবং নিট মুনাফা উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
এ সময়ে কোম্পানিটির সিগারেট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৪ শতাংশ বা ১৫০ কোটি ৭০ লাখ শলাকা কমেছে। একই সঙ্গে মুনাফা কমেছে ৩৪ শতাংশ।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩১৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৮৮ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ৫ টাকা ৮৯ পয়সা।
জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৯২৩ কোটি ১০ লাখ শলাকা সিগারেট বিক্রি করেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৩ কোটি ৯০ লাখ শলাকা।
বিশ্লেষক এবং কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যবসায়িক মন্দার পেছনে বেশ কিছু প্রভাবক কাজ করেছে । যেমন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের খরচ করার সক্ষমতা কমেছে। ফলে অনেকেই তামাক জাতীয় পণ্যে ব্যয় সংকোচন করছেন অথবা তুলনামূলক কম দামের বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। এক বছরে কোম্পানিটির পরিচালন ব্যয় ৪১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩১ কোটি ৮৩ লাখ টাকায়, যা গত বছর ছিল ১৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
বিক্রয়লব্ধ অর্থ আদায় কমে যাওয়া এবং কার্যকরী মূলধনের জন্য নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধের ফলে শেয়ারপ্রতি নেট পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ২২.৭০ টাকায় নেমেছে।
মোট ৮,৭২৫ কোটি টাকার বিক্রির বিপরীতে কোম্পানিটি সরকারকে সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট এবং আয়কর বাবদ মোট ৭,৫৭৭ কোটি টাকা প্রদান করেছে।
আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পরপরই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিএটি বাংলাদেশের শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১.৫২% কমে ২১৪ টাকায় নেমে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে বিএটি বাংলাদেশ ফিনিশড গুডস বা সমাপ্ত পণ্য রপ্তানি থেকে কোনো আয় করতে পারেনি। তবে তামাকপাতা রপ্তানি করে কোম্পানিটি ৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা আয় করেছে।
Comments