ভোটে হারিনি, পদত্যাগ কেন করব?: পরাজয় মানতে নারাজ মমতা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালিঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ভোটে হারেননি, তাই পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, 'ইনটেনসিভ রিভিশন' বা এসআইআর-এর নামে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে তৃণমূল সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "আমি ভোটে হারিনি। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এমন ভোট আগে কখনো দেখিনি। আমরা হারিনি, তাই রাজভবনে যাওয়ার (পদত্যাগ করতে) প্রয়োজন নেই।"
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, এবারের লড়াই বিজেপির সঙ্গে ছিল না, বরং তাদের লড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এই ভোটের 'খলনায়ক' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "তৃণমূলের অন্তত ১০০টি আসন লুট করা হয়েছে। সব তথ্য-প্রমাণ আমার কাছে আছে। কিন্তু অভিযোগ করার জায়গা নেই, কারণ সবাই বিক্রি হয়ে গেছে।"
সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমসহ শীর্ষ নেতাদের পাশে নিয়ে মমতা বলেন, গণনার শুরুতেই বিজেপির লিড দেখানোটা ছিল দিল্লির একটি চক্রান্ত। তিনি দাবি করেন, "১৪ থেকে ১৮ রাউন্ড গণনার প্রথম কয়েক রাউন্ড পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায় এবং বিজেপির গুন্ডারা সাহস পায়।"
নির্বাচনী ধাক্কার পর নিজের ভবিষ্যৎ অবস্থান পরিষ্কার করে মমতা বলেন, "এখন থেকে ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। আমি এখন মুক্ত পাখি। মানুষের সেবা করতে রাজপথে ছিলাম, রাজপথেই থাকব।" তিনি আরও জানান, ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী তাঁকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন।
Comments