তিতাসের ৫৬০০ মিটার গভীরে মিলতে পারে ২ টিসিএফ গ্যাস
তীব্র জ্বালানি সংকটের মাঝে আশার আলো দেখাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাটির ৫ হাজার ৬০০ মিটার (প্রায় ১৮,৩৭২ ফুট) গভীরে খনন বা 'ডিপ ড্রিলিং' শুরু করেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সফল হলে এখান থেকে প্রায় ২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) নতুন গ্যাস পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৩১ নম্বর কূপ খননে ব্যস্ত সময় পার করছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোপেক কনট্র্যাক্টিং অ্যান্ড ড্রিলিং কোম্পানি (সিসিডিসি)। এর আগে দেশে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯০০ মিটার পর্যন্ত খননের রেকর্ড থাকলেও এবারই প্রথম ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার গভীরে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, তিতাস ও বাখরাবাদে দুটি গভীর কূপ খননে মোট ৫৯৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। তিতাসের কাজ শেষ হলে একই রিগ দিয়ে বাখরাবাদ-২১ কূপের খনন শুরু হবে।
প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে কর্মকর্তারা জানান, মাটির ৩ হাজার ৭৫০ মিটার পার হলেই প্রচণ্ড উচ্চচাপের (High Pressure) এলাকা শুরু হয়। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এবার ১৫ হাজার পিএসআই সক্ষমতার অত্যাধুনিক 'ব্লো-আউট প্রিভেন্টর' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৫০০ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৬০-২৭০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তিতাসের গভীরে ৪টি স্তরে গ্যাসের মজুত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার চিত্র বদলে যেতে পারে।
গত ১৯ এপ্রিল শুরু হওয়া তিতাস-৩১ কূপের খননকাজ ইতোমধ্যে ২২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পুরো খনন প্রক্রিয়া শেষ করতে ২১০ দিন সময় ধরা হয়েছে। খনন শেষে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Comments