গভীর সংকটে অর্থনীতি, আগামী দুই বছর ‘কঠিন’ হতে পারে- অর্থমন্ত্রীর
দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক গভীর ও জটিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই পরিস্থিতি উত্তরণে আগামী দুই বছর দেশবাসীকে 'কঠিন সময়' পার করতে হতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের স্বার্থে সরকারকে এমন কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যা জনসাধারণের কাছে 'অজনপ্রিয়' মনে হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলকে দায়ী করে বলেন, "ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।" এছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ জ্বালানি খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "আমাদের অন্তত দুই বছর কষ্ট করা লাগতে পারে। অর্থনীতিকে এমন এক নিম্নস্তরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে একে টেনে তুলতে হলে কঠিন সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য। এই প্রক্রিয়ায় আমরা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেব যা হয়তো জনপ্রিয় হবে না, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সেগুলো নিতেই হবে।"
উল্লেখ্য যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে শ্বেতপত্র প্রণয়ন করা হয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ও বেশ কিছু শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা এবং সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও অর্থনীতির চাকা এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বাজার নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং কাঠামোগত আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হবে।
Comments