নিজ দেশে নির্যাতনের ভয় থাকলে মিলবে না মার্কিন ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী যদি তার নিজ দেশে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তবে তাকে আর মার্কিন ভিসা দেওয়া হবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বিশ্বজুড়ে অবস্থিত সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে একটি বিশেষ কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনকারীদের এখন থেকে দুটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা বাধ্যতামূলক: ১. আপনি কি আপনার দেশে কোনো ক্ষতি বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন? ২. নিজ দেশে ফিরে গেলে আপনি কি নতুন করে কোনো ক্ষতি বা নির্যাতনের আশঙ্কা করছেন?
নির্দেশনায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আবেদনকারীকে এই দুটি প্রশ্নের উত্তরই মৌখিকভাবে 'না' দিতে হবে। যদি কেউ 'হ্যাঁ' বলেন বা নির্যাতনের আশঙ্কার কথা জানান, তবে তার ভিসা প্রক্রিয়া সেখানেই বাতিল হয়ে যাবে।
এই নতুন নিয়মটি মূলত নন-ইমিগ্র্যান্ট বা অস্থায়ী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে টুরিস্ট বা পর্যটক ভিসা, স্টুডেন্ট বা শিক্ষার্থী ভিসা,অস্থায়ী কর্মসংস্থান বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত যারা সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পরবর্তী সময়ে 'রাজনৈতিক আশ্রয়' বা এসাইলাম দাবি করেন, তাদের পথ বন্ধ করতেই এই কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সাধারণত নিজ দেশে জীবননাশের হুমকি থাকলে অভিবাসীরা আশ্রয়ের আবেদন করেন। নতুন নিয়মে শুরুতেই 'নির্যাতনের ভয় নেই' বলে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় পরবর্তীতে তাদের জন্য আশ্রয়ের আবেদন করা আইনিভাবে কঠিন হয়ে পড়বে।
Comments