যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধের ইঙ্গিতে তেলের দাম ১২০ ডলার পার
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের 'দীর্ঘমেয়াদি' অবরোধ আরোপের গুঞ্জনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের আকাশচুম্বী হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাময়িকভাবে ১২২ ডলারেও পৌঁছেছিল। ২০২২ সালের পর তেলের মূল্যে এটিই সর্বোচ্চ উল্লম্ফন।
তেলের দাম এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে বেশ কিছু ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণ কাজ করছে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের (যেমন শেভরনের মাইক ওয়ার্থ) সাথে বৈঠক করেছেন। সরকারিভাবে একে নিয়মিত আলোচনা বলা হলেও, বাজার বিশ্লেষকরা একে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনার সংকেত হিসেবে দেখছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০% এই রুট দিয়ে যায়, যা বর্তমানে কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে দেশটির বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিপরীতে ইরানও হুমকি দিয়েছে, তাদের অবরোধ না সরলে এই নৌপথ উন্মুক্ত হবে না।
বর্তমানে তেলের দাম সংঘাত-পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। যদিও এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে হামলা স্থগিতের খবরে দাম কিছুটা কমেছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে গত ১২ দিন ধরে বাজার আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
Comments