সংকট মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ: বাণিজ্যমন্ত্রী
বিশ্বজুড়ে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর সংসদকে এই তথ্য জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের যে অস্থিরতা চলছে, তা থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা ভারত ও রাশিয়ার মতো বিকল্প উৎসগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। একই সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।"
দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে সরকার কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন: ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (FTA) বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের সক্ষমতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা হবে। বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করা হবে।
পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে বিশ্বের ২১টি দেশে বাংলাদেশের ২৪টি বাণিজ্যিক উইং সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলো হলো— লন্ডন, ওয়াশিংটন ডিসি, মস্কো, বেইজিং, নয়া দিল্লী, টোকিও, জেদ্দা, দুবাই, ব্রাসেলস, প্যারিস, বার্লিন ও জেনেভা।
বাণিজ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বাণিজ্যিক উইংগুলোর তৎপরতায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে।
Comments