হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার আহ্বান চীনের
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একদিকে যেমন ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকা উচিত, তেমনি আন্তর্জাতিক এই জলপথে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।
ওয়াং ই আরও জানান, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে। বেইজিং বর্তমানে কার্যকর যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার পক্ষে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া নৌ-অবরোধের পর এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই তা লঙ্ঘন করতে পারেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক হালনাগাদ তথ্যে জানায়, গত কয়েক দিনে অন্তত ১০টি জাহাজকে প্রণালি অভিমুখে যেতে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের ভাষ্যমতে, ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে আটকানো বা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে ইরান ব্যতীত অন্য দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বুধবার মার্কিন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার 'ইউএসএস স্প্রুয়ান্স' বন্দর আব্বাস থেকে ছেড়ে আসা একটি ইরানি কার্গো জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে দুটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে: ১. হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরান যে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল তা বন্ধ করা। ২. ইরানের তেল রপ্তানি কমিয়ে দেশটির অর্থনীতি ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে ইরান এই মার্কিন অবরোধকে 'দস্যুতা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তেহরান হুমকি দিয়েছে যে, এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে নৌ-চলাচল লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুটটিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
Comments