অবরোধের মধ্যেই ৫টি ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজের হরমুজ প্রণালি অতিক্রম
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা নৌ-অবরোধের মধ্যেই ইরানের বন্দর ব্যবহারকারী ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ৫টি জাহাজ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার এবং এলএসইজি মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর বেশ কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে দুটি জাহাজ সরাসরি ইরানের বন্দর ব্যবহার করেছে:
ক্রিশ্চিয়ানা: লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি ইরানের ইমাম খোমেনি বন্দরে ভুট্টা খালাস করে ফেরার পথে লারাক দ্বীপ অতিক্রম করে। সোমবার অবরোধ শুরু হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা পর এটি প্রণালি পার হয়।
এলপিস : পূর্ব আফ্রিকার দেশ কোমোরোসের পতাকাবাহী এই জাহাজটিও সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। অবরোধ শুরুর কিছুক্ষণ আগেই এটি লারাক দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থানে ছিল।
রিচ স্টারি: চীনা কোম্পানির মালিকানাধীন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত এই ট্যাঙ্কারটি অবরোধ শুরুর পর প্রথম জাহাজ হিসেবে সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে পারস্য উপসাগর থেকে বের হয়ে আসে।
অবরোধের আওতায় সরাসরি না পড়লেও নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা আরও তিনটি ট্যাঙ্কার হরমুজ অতিক্রম করেছে:
পিস গালফ নামে পানামার পতাকাবাহী এই ট্যাঙ্কারটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
মুরলিকিষাণ জাহাজটি জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য বর্তমানে ইরাকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই জাহাজটি এর আগে রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ব্যবহারকারী যেকোনো দেশের জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর করেছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি কোনো জাহাজ সরাসরি ইরানের বন্দর ব্যবহার না করে অন্য কোনো দেশের বন্দরের দিকে যায় (যেমন- ইরাক বা আমিরাত), তবে তা এই বিশেষ অবরোধের আওতায় পড়বে না।
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর এই কঠোর নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর মতে, এই অবরোধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
Comments