মার্কিন অবরোধ ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’: চীন
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সাম্প্রতিক অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিং এই পদক্ষেপকে 'বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন' হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছে যে, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। পাকিস্তানে দু'দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার মাত্র এক দিন পর সোমবার এই কঠোর অবরোধ কার্যকর করে ওয়াশিংটন।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির সমালোচনা করে বলেন: এই অবরোধ কেবল দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকেই উসকে দেবে না, বরং বর্তমানে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
ইরানকে চীনের নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের খবরটিকে 'সম্পূর্ণ বানোয়াট' বলে উড়িয়ে দেন জিয়াকুন। তিনি স্পষ্ট জানান, এ ধরনের কোনো সামরিক সহায়তার পরিকল্পনা বেইজিংয়ের নেই।
চীন তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে—এমন খবরের ভিত্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে জিয়াকুন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: "যুক্তরাষ্ট্র যদি মিথ্যা অজুহাতে চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর চেষ্টা করে, তবে বেইজিং অবশ্যই কঠোর ও দাঁতভাঙা পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস ল্যান্ডেল এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানান, চীনের জন্য ইরানের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ: চীনের আমদানিকৃত তেলের একটি বিশাল অংশ আসে ইরান থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখাই এখন বেইজিংয়ের প্রধান স্বার্থ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ এবং অন্যদিকে চীনের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের হুমকি বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে।
Comments