হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের ১৫ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন: চ্যালেঞ্জ চীনের
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আল্টিমেটাম অনুযায়ী হরমুজসহ ইরানের সকল নৌবন্দর অবরোধের সিদ্ধান্ত কার্যকর শুরু হয়েছে। এই অবরোধ নিশ্চিতে জলসীমায় ১৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।
- সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই কঠোর অবরোধের মধ্যেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে চীনা মালিকানাধীন জাহাজ 'রিচ স্টারি'। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিক ও কেবলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বিশ্বের বেশিরভাগ বড় শিপিং কোম্পানি এই রুট দিয়ে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
হরমুজ ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলছে তীব্র বাগযুদ্ধ: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের বিরুদ্ধে 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদে'র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, "হরমুজ নিয়ে ইরান যে খেলা খেলছে তা অগ্রহণযোগ্য। আমরা এই রুটটি পুরোপুরি সচল ও নিরাপদ দেখতে চাই।" জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এই অবরোধকে দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং চীনের পক্ষ থেকে এই অবরোধকে 'বিপজ্জনক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন' বলে নিন্দা জানানো হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ কড়া ভাষায় এই অবরোধের নিন্দা জানিয়ে বলেন:
"সমুদ্র আইন অনুযায়ী কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। সংঘাতের কারণে জাহাজগুলো এখন এই পথে চলতে ভয় পাচ্ছে।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতিসংঘ সকল পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে।
এত বড় উত্তেজনার মাঝেও বিশ্ববাজারে তেলের দামে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.২% কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এদিকে ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী দাবি করেছেন, যুদ্ধকালীন এই সংকটের মধ্যেও মার্চ-এপ্রিল মাসে তেহরানের তেল বিক্রির পরিমাণ বেশ সন্তোষজনক ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজের এই 'স্বার্থের লড়াই' কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
Comments